দীর্ঘস্থায়ী কর্মগত ক্লান্তি বা বার্নআউট বর্তমানে একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। মুডলের রিপোর্ট জানাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৬ শতাংশ কর্মী বার্নআউটে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ শুধু অতিরিক্ত চাপ নয়, বরং ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের একটি পদ্ধতি, যা মানবিক নয় বরং যান্ত্রিক।
পূর্বের ক্যারিয়ার কাঠামোয় স্মার্ট লক্ষ্য স্থাপন, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং পিছিয়ে পড়লে আরও বেশি কাজ করার প্রবণতা কার্যকর ছিল। তবে বর্তমান অনিশ্চিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে এই পদ্ধতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে বার্নআউট বৃদ্ধি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য একটি স্মার্ট এবং মানবিক পদ্ধতির প্রয়োজন—যেখানে অগ্রগতি থাকবে কিন্তু শক্তির ক্ষয় হবে না।
আরও পড়ুন
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: ২০০ প্রশ্নের সমাধান দেখুন এখানে
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: ২০০ প্রশ্নের সমাধান দেখুন এখানে
‘যা করা উচিত’ নয়, ‘যা গুরুত্বপূর্ণ’—এটাই হওয়া উচিত লক্ষ্য
অনেকে সমাজ বা অন্যদের প্রত্যাশা মেটানোর কারণে এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, যা তাদের জন্য কার্যকর নয়। এর ফলে অর্জনের পরও সন্তুষ্টি পাওয়া যায় না। Journal of Applied Psychology তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যারা শেখা এবং দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের মধ্যে বার্নআউটের হার কম।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—কোনো লক্ষ্য গ্রহণের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘এই অর্জন নিয়ে যদি কেউ না জানে, তাহলে কি আমি এটি চাইবো?’ যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে সেটি সম্ভবত নিজের জন্য নয়, বরং অন্যের সাফল্যের মাপকাঠি।
আরও পড়ুন
প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায়, ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় চাকরি
১৮ জানুয়ারি ২০২৬
প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায়, ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় চাকরি
ফলাফল নয়, শক্তির সঙ্গে লক্ষ্যকে সম্পর্কিত করুন—
২০২৬ সালে সফল পেশাজীবীরা শুধু কিসে সফল হবে তা নয়, বরং কোন কাজ তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে—সেটাও বিবেচনা করছে। কোন কাজ আপনাকে উদ্দীপিত করে এবং কোন কাজ দ্রুত ক্লান্ত করে—এ বিশ্লেষণ টেকসই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষ্য কমিয়ে, স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন—
অনেক লক্ষ্য একসাথে নিয়ে গেলে মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা নির্দেশ করে, সীমিত কিন্তু নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। সুতরাং বছরে একটি প্রধান ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং তার সঙ্গে এক বা দুইটি সহায়ক লক্ষ্য যোগ করা অধিক কার্যকর।
সাফল্যের সংজ্ঞা করুন—
লিংকডইনে পোস্ট করার জন্য অর্জনই সব নয়। নীরবে দক্ষতা অর্জন, সম্পর্ক গঠন কিংবা নতুন জ্ঞান লাভ—এসব আগামীতে বড় সুযোগ তৈরি করে। তাই আউটপুটের পরিবর্তে ‘ট্র্যাকশন’ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানাচ্ছেন।