যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিতে থাকা বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক জে.পি. মর্গান ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের মূল্য আগামী কিছু বছরে আরও বড় বৃদ্ধি পাবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬,৩০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স।
সোমবার প্রকাশিত একটি গবেষণা নোটে জে.পি. মর্গান জানায় যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী এবং ধারাবাহিক চাহিদা স্বর্ণের মূল্যের বৃদ্ধির মূল কারণ হবে। ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে, শুধু ২০২৬ সালেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলে প্রায় ৮০০ টন স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করেছে।
গবেষণা নোটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনার দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা এখনও শেষ হয়নি। ডলার এবং কাগুজে সম্পদের তুলনায় স্বর্ণকে বাস্তব সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধাপে ধাপে বাড়ছে। हालের কিছু বাজারের অস্থিতিশীলতা থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংকটি মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব বাজারে একদিনে স্বর্ণের মূল্য ৯.৮ শতাংশের বেশি পতন ঘটে, যা ১৯৮৩ সালের পর-এর দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। শিকাগো মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে মার্জিনের হার বৃদ্ধির কারণে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়াকেই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক বছরে স্বর্ণকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স
